ভারতের মৌলিক দায়িত্ব ও আমরা

ভারতের সরকার আমাদের সংবিধান এ নাগরিক দের জন্য কিছু মৌলিক দায়িত্ব গুলো দিয়েছে গেছে।। এই মৌলিক দ্বায়িত্ব গুলো কি কি তা ভারতের 98 শতাংশের মনে হয় জানা নেই আসুন আমরা জেনে নি কি কি সেই মৌলিক দায়িত্ব গুলো ।

1■◆ সংবিধান কে মানতে হবে, সংবিধান আদর্শ, জাতীয় পতাকা ও জাতীয় সংগীত কে মান্য দিতে হবে।
2■◆ যেকল মহান আদর্শ ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনকে উদ্ভূত করেছিল সেগুলি কে পোষন এবং অনুসরণ করতে হবে।
3■◆ ভারতের সার্বভৌমত্ব , ঐক্য সংহতি কে সমর্থন ও সংরক্ষণ করতে হবে।
4■◆ দেশ রক্ষা ও জাতীয় সেবাকার্যে আত্মনিয়োগ এর জন্য আহত হলে সারা দিতে হবে।
5■◆ ধর্মগত, ভাষাগত, অঞ্চলগত , শ্রেণী গত উর্ধে উঠে সকল ভারতবাসীকে ভাতৃত্ব বোধ কে সম্প্রসারিত করতে হবে, নারিজাতির মর্যাদা হীনকর সকল প্রথা কে পরিহার করতে হবে।
6■◆ আমাদের দেশের মিশ্র সংস্কৃতির গৌরবময় ঐতিহ্য কে মূল্য প্রদান করতে হবে।
7■◆ বনভূমি ,হ্রদ ,নদী, বন্য প্রাণীসহ প্রাকৃতিক পরিবেশের সংরক্ষণ ও উন্নতি এবং জীব জন্তুর প্রতি মমত্ববোধ প্রকাশ করতে হবে।
8■◆ বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি, মানবিকতাবোধ, অনুসন্ধিৎসু ও সংস্কারমূলক মনভাবের প্রসার সাধন করতে হবে।
9■◆ জাতীয় সম্পত্তি রক্ষণাবেক্ষণ করতে হবে ও হিংসার পথ পরিহার করতে হবে।
10■◆ সকল ক্ষেত্রে জাতীয় উন্নতি উৎকর্ষ এবং গতি বজায় রাখার উদ্দেশ্য ব্যক্তিগত ও সমষ্টি কাজে চরম উৎকর্ষ জন্য সচেষ্ট হতে হবে।
11■◆ ছয় থেকে চৌদ্দ বছরের বয়সের প্রত্যেক শিশুকে শিক্ষাদানের ব্যবস্থা করতে হবে। এটি পিতা মাতা ও অভিভাবকদের পালনীয় মৌলিক কর্তব্য।
এই গুলি ছিল সংবিধানের মৌলিক দায়িত্ব ।
তথ্য সূত্র ভারতীয় সংবিধান

এবার আসুন দেখে নি তার বদলে আমরা এখন কি কি করি।

1 ৸ সংবিধান! জানি ই না কি আছে সংবিধান এ🤣 । জাতীয় পতাকা 16 আগস্ট রাস্তায় পরে থাকতে দেখি,
2৸ যেকল মহান আদর্শ স্বাধীনতা আন্দোলন কে উদ্ভূত করেছিল তা আমরা ভুলে গেছি । না নেতাজির মত বিদ্রোহী না গান্ধীর মত শান্তিকামী না ক্ষুদিরাম এর মত সাহসী, এদের কাউকেই অনুসরণ করি না উল্টে এদের নিয়ে রাজনীতি করি।
3৸ সার্বভৌমত্ব ওটা আবার কি ওটা খায় না মাথায় মাখে।। আর সংহতি হাহা ঐটা আজকাল দেখা যায়না, ।। জয় শ্রী রাম বলে অন্য ধর্মের লোক কে পেটানো হয়। ওর ওটা দেখে আরেক ধর্মের লোক ফন্দি আটে চল আমরাও জেহাদ করি।ঐক্য রক্ষার বদলে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা বাঁধাই। জোর করে শুয়োরের মাংস খাওয়াই। কখন স্লোগান ওঠে “তোরা পাকিস্তান চলে যা” কিংবা কখন ওঠে মহারাষ্ট্র ছাড় বাংলা ছাড়।
4৸ দেশ রক্ষা টা ওই ফেসবুক পর্যন্ত আর বাইরে কাউকে । উল্টে রাস্তা ঘাট কে নোংরা করি, জল অপচয় করি, ঘুষ নি ঘুষ দি, ট্যাক্স ফাঁকি দি, ট্রেনে টিকিট কাটি না, জল দূষণ বায়ু দূষণ মাটি দূষণ আরো কত কি, আর তেল মালিশ করাই জাতীয় সেবা।
5৸ এটা একটু ভেঙে আলোচনা করি
ধর্ম- না এটার উর্ধে আজ ও উঠতে পারিনি । কে কত টা সহি হিন্দু সহি মুসলিম এই নিয়ে competion চলে, একদল বলে রাস্তায় নামাজ পড়বো আরেকদল বলে রাস্তায় হনুমান চল্লিশা পড়ব।। এ বলে গরু খাওয়া যাবে না। আর ও বলে বন্দে মাতরম বলা যাবে না।
ভাষাগত- এটা মাঝে মাঝে সমস্যা দেখায় হিন্দি কে কেন্দ্র করে কখন তামিল ক্ষেপে কখন বাংলা , শুনছ আসামে নাকি বাংলা আর আসামি নিয়ে কি একটা ঝামেলা চলছে।
অঞ্চল – আমারা তো সব আঞ্চলিক কুকুর।। বিহারে গেলে বিহারী রাজ, বাংলায় বাংলা রাজ মহারাষ্ট্রে মারাঠা রাজ, আর তামিলনাড়ুতে তামিল রাজ।
শ্রেণী – এইটা আর আলোচনা করা লাগে?? ধোনি দরিদ্র , উঁচু নিচু ভেদাভেদ তো অহরহ চলছে।
অর্থাৎ আমরা ধর্মগত ,ভাষাগত, অঞ্চলগত, শ্রেণী গত উর্ধে উঠতেই পারিনি।

6৸ মিশ্র সংস্কৃত ও খুব একটা দেখিনা সবাই তো যে যার সংস্কৃতি নিয়ে ব্যস্ত, ।
7৸ বনভূমি কে কেটে ছোট করে দিয়েছি, (সুন্দরবন)
জলাশয় গুলো কে বুঝিয়ে বড় বড় মাকান বানিয়েছি, পশু সংরক্ষণ বলতে যেটা বুঝি তা হল কুকুর বাচাই গরু বাচাই বাঘ কে পিটাই,
8৸ এই টা একদম ই নেই তার বদলে রয়েছে গো মূত্র বিজ্ঞান, রাডার বিজ্ঞান, গণেশের হেড ট্রান্সপ্লান্ট (আমাদের প্রধানমন্ত্রী সয়ং মুখ দিয়ে বলেছেন) জ্যোতিষ শাস্ত্র, তাবিজ মাদুলি , কখন আলুতে গণেশ খুঁজে পাই , কখন বাঁশ গাছ থেকে জল পড়লে দৈব পানি হিসাবে গ্রহণ করি, এই গুলো সংস্কার এর বদলে আরো কুসংস্কার এর দিকে বেশি এগোই।
কোন কিছু অনুসন্ধান না করেই একটা ভুয়ো খবর নিয়ে মাতা মাতি করি। গুজব বেশি রটে,
9৸ জাতীয় সম্পত্তি রক্ষার বদলে ক্ষতি ই বেশি করি। হসপিটাল ভাঙচুর , স্কুল ভাঙচুর, কলেজ ভাঙচুর, মূর্তি ভাঙচুর, বাস ভাঙচুর, মানুষের মাথা ভাঙচুর ইত্যাদি।
10৸ এটা নিয়ে একটা sentence বলি । মন্দির বাহি বানায়েঙ্গে।
সুতরাং দেখা যায় যে ভারতীয় সংবিধান এ যেসব মৌলিক দায়িত্ব গুলো দিয়েছে সেই গুলো আমরা কেউ ই পালন করতে পারিনা । এইগুলো পালন করলে ভারত বর্ষ জাপান হয়ে যেত, আমরা যদি সত্যি দেশপ্রেমিক হয়ে থাকি তাহলে ভারতের সংবিধান এ দেওয়া এইসকল মৌলিক দায়িত্ব গুলো অবশ্যই পালন করা উচিত , কিন্ত তার বদলে সবাই যে যার পেছনে কাঠি করতে ব্যস্ত, আসলে আমরা সবাই সবার পিছনেতে সবার হাতেই কাঠি। আমরা আসলে দেশদ্রোহী।
তথ্যসূত্র – আমাদের চারপাশ